১৫ মার্চ ১৯৭৮ বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমস’ নামে ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ আসরের পথচলা শুরু । সময়ের পরিক্রমায় আসরের পরিবর্তিত নাম হয়েছে
‘বাংলাদেশ গেমস’। নির্ধারিত সময়ের ৬ বছর পর ২০-২৮ এপ্রিল ২০১৩ অনুষ্ঠিত হয় ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ এ আসরের অষ্টম আয়োজন।
নানা চড়াই,উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ১ মাস ১ দিন পর বার্ণিল উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে ২০ এপ্রিল শনিবার পর্দা ওঠে বাংলাদেশের অলিম্পিক খ্যাত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের। ‘হৃদয়ে খেলার স্পন্দন’ স্লোগান নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানি আর আতশবাজির উৎসবে শুরু করা হয় দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ।
এর আগে ১৯ এপিল শুক্রবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ১০ জন ক্রীড়াবিদ জ্বলন্ত মশাল নিয়ে দৌড় শুরু করেন। এরপর তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুসজ্জিত মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করে আনা হয় আর্মি ষ্টেডিয়ামে। সেখান থেকে ৩৬ জন ক্রীড়াবিদেও একটি দল মশাল নিয়ে আসেন জাতীয় ষ্টেডিয়ামে। ২০ এপ্রিল শনিবার সেখানে মশাল হাতে দৌড়ান ৪ ক্রীড়াবিদ। সর্বশেষ লিফটে চড়ে মশাল স্টান্ডে দাঁড়িয়ে মশাল জ্বালান সাবেক হকি তারকা জুম্মান লুসাই।
বাংলাদেশ গেমস প্রতিযোগিতা হয় ৩৪৬ টি স্বর্ণ,
৩৪৬ টি রৌপ্য ও ৪৭৭ টি ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। কয়েকটি ইভেন্টে ২ টি কওে ব্রোঞ্জ পদক দিতে হয়। দলগত ইভেন্টে দলের প্রত্যেককে আলাদা কওে পদক দেয়ায় পদক সংখ্যা বেশি কওে বানাতে হয়। সে হিসেবে অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে মোট পদক সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৪৩ টি। এ আসরে প্রথম স্বর্ণ পদক লাভ করে টেনিসের পুরুষ দ্বৈতে যৌথভাবে অমল রায় ও হেনরি পৃথুল।
২০ এপ্রিল শুরু হওয়া অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের সাদামাটা সমাপনীতে পর্দা নামে। সাভার ট্রাজেডির কারণে সমাপনী অনুষ্ঠানের চাকচিক্য বর্জন করা হয়েছে। সাদামাটা সমাপনীর মধ্যদিনে পর্দা নামে ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের। সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথির আগমণ তারপর এভি ডিসপ্লে,
মাসকট ও মার্চপাস্টের মাধ্যমে অ্যাথেলিটদের মাঠে প্রবেশ,
এক মিনিট নীরবতা পালন, মাসকটের বিদায়,
মশাল নিভিয়ে ফেলা ইত্যাদি।
বাংলাদেশ গেমসের সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এমপি, বিওএ’র সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া,
মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, সহ-সভাপতি ও স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু,
মিজানুর রহমান মানু, শেখ বশির আহমেদ মামুন,
উপ-মহাসচিব বাদল রায়, আশিকুর রহমান মিকু, এসএম ইমতিয়াজ খান বাবুল ও বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ফজল বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ গেমসে টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থানে নিজেদের সাফল্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দল। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অবদান আরও একবার প্রমাণ করল সার্ভিসেস এই দলটি।সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ গেমসে ১১১টি স্বর্ণ,
৭৪টি রুপা ও ৬৫টি ব্রোঞ্জসহ ২৫০টি পদক জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফের প্রমাণ করল আনসার।
১৯৯২ সালে পঞ্চম বাংলাদেশ গেমস থেকেই পদক তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা শুরু আনসারের। সেবার তারা ৫০টি স্বর্ণ জিতে পদক তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নেয়।
১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ বাংলাদেশ গেমসে ৬৯টি স্বর্ণ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখে আনসার। ২২ ডিসিপ্লি¬নে তিন হাজার ৬৭৯ জন ক্রীড়াবিদের আসরে আনসারের সাঁতারু রেহানা জামান ব্যক্তিগতভাবে ১০টি স্বর্ণ জিতে সেরা ক্রীড়াবিদের মর্যাদাও পান।
২০০২ সালে সপ্তম বাংলাদেশ গেমসেও সেরার মুকুট ছিল এই আনসার বাহিনীর মাথায়। ২৫টি ডিসিপ্লি-নের ওই আসরে ৬৫টি স্বর্ণ,
৬১টি রুপা ও ৬৪টি ব্রোঞ্জসহ ১৯০টি পদক জিতে তৃতীয় বারের মতো গেমসের শীর্ষস্থানে থাকে। তারা পরপর তিনবার গেমসের শীর্ষস্থান দখলে রাখায় ওই বছরেই স্বাধীনতা পুরস্কার পায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনী। বাংলাদেশ গেমসের অষ্টম আসরে ডিসিপ্লিন সংখ্যা বাড়ায় আনসারের পদক সংখ্যাও বেড়েছে। গেমসের মোট ৩৩৬টি স্বর্ণের মধ্যে আনসারের অর্জন ১১১টি।
লেখা : আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন