সাহিত্য

কাঁদছে আকাশ, কাঁদছে বুলডোজার


চারদিকে জারুল ফুলের যে পাঁপড়িগুলো, তাতে ফুটে আছে
আমার শত বোনের প্রাণ। চারদিকে বয়ে যাচ্ছে যে দমকা হাওয়া
তাতে মিশে আছে আমার শত ভাইয়ের আয়ু। যারা সাভারের
রানা প্লাজা`য় শ্রম দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আর
ফিরে আসবে না কোনো দিন।

যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে মৃত্যুর সাথে লড়ছে হাসপাতালের বেডে,
ওরা ফিরে যেতে চায় গ্রামে। ‘আর নয় ঢাকা শহর’ -এমন
আতঙ্কে কুঁকড়ে উঠছেন যে আহত মানুষটি, তাকে শান্ত্বনা
দেবার ভাসা হারিয়ে ফেলেছে গোটা বাংলাদেশ।

কাঁদছে নদী। কাঁদছে লাল কংক্রিট । কাঁদছে ভারী বুলডোজার।
যে ক্রেন হাজার টন বহন করতে পারে- সে ও কান্নায়
ভেঙে পড়ে বলছে, আর কত লাশের ভার বইবে- হে মাতৃভূমি!

আমি যে পথের সামনে দাঁড়িয়ে আছি- সেই নিউইয়র্কের
কুইন্স শপিং মল সেন্টারের সামন দিয়ে যাচ্ছে একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী।
তার মাথার স্কার্ফের ট্যাগে ঝুলে আছে `মেড ইন বাংলাদেশ`
যে বাংলাদেশ আজ শোকপাথরের এক নির্মম বিশ্বচিত্র।

আর কত এমন নির্মমতা? আর কত জবাবহীন সমাজের পাহারাদারি?
এই রাষ্ট্রযন্ত্রের গায়ে ক্রমশঃ তৈরি হচ্ছে যে ক্ষত-
কিংবা এই জাতিসত্তার গায়ে ধরছে যে ফাটল- তা সারাবে কে?
আর কত দীর্ঘ হবে নিহত মানুষের তালিকা?

কাঁদছে আকাশ। কাঁদছে বুলডোজার। ফেনী থেকে যে মানুষটি
উদ্ধার কাজের জন্য ঢাকা এসেছিল- সে ও ফিরে যাচ্ছে
একগুচ্ছ শবস্মৃতিকে জীবনের সম্বল করে।

কোন মন্তব্য নেই:

অনুবাদ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ