শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০১৩

জঙ্গি সন্দেহে ২১ জনকে আটক



:: রাবিদ ইসলাম ::

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঠাঁটারিবাজার এলাকার হোটেল স্টারে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি দল গঠনের সন্দেহে ২১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১১ জন বুয়েটের ছাত্র, বাকি ১০ জন ব্র্যাক ও স্টামফোর্ডসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টায় তাদের আটক করে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় তাদেরকে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশের তধ্যমতে, এরা নতুন একটি ইসলামি দল গঠনের উদ্দেশ্যে ঐ হোটেলে জড়ো হয়েছিল যা অনেকটা হিজবুত তাহরিরের মতো। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে সরকারি বিরোধী সহিংসতায় এদের হাত রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা সংগঠনটির নেতৃত্ব দেয় বলেও জানান তিনি।

পুলিশের ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস শরীফ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে নতুন একটি ইসলামি দল গঠনের উদ্দেশ্যে মৌলবাদী সংগঠনের প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী স্টার হোটেলে গোপন বৈঠক করছে।  এ সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ চারদিক থেকে স্টার হোটেল ঘিরে ফেলে। এ সময়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেলের ভেতর একটি কক্ষে মোট ৭২ জন ব্যক্তিকে একসঙ্গে থাকতে দেখে সন্দেহবশত তাদের আটক করে।

এদের মধ্যে বুয়েটের রয়েছে বুয়েটের এক শিক্ষক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৬১ জন শিক্ষার্থী এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ১১ জন শিক্ষার্থী । এরপর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৫১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২১ জনকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত শিক্ষার্থীরা বলেন, বুয়েটের বড় ভাইরা তাদের দাওয়াত দিয়েছিল তাই তারা এখানে এসেছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছিল কি-না জানতে চাইলে পুলিশের ডিসি ইলিয়াস শরীফ বলেন, তাদের কথাবার্তায় তেমন কিছু মনে হয়নি। তবে আমরা বিষয়টি দেখছি।

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

চলতি বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি আকার নিয়ে কাল আসছে বাজেট


:: আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের ::

জাতীয় সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামীকাল ৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় তিনি এই বাজেট উপস্থাপন করবেন। এ বাজেটের পরিমান হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। বর্তমান বাজেটের আকার এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। উপস্থাপিত বাজেটের উপর চল্লিশ ঘণ্টা আলোচনার পর আগামী ৩০ জুন ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের এই বাজেট পাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: হালচিত্র-২০১৩, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত উন্নয়নে পথনক্শা: অগ্রগতির ধারা, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, নারীর উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৪০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম, সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, মঞ্জুরী ও বরাদ্দের দাবিগুলো (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিগুলো (উন্নয়ন), রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা: বর্তমান ও ভবিষ্যত, বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অসমতা: উত্তরণের পথেযাত্রা, জেলা বাজেট, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ থেকে সরবরাহ করা হবে।

একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২০১৩-১৪’ এর একটি দলিল এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলী ২০১২-১৩’ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

এছাড়া রাজনীতির ডামাডোলে দলীয় ইচ্ছার সঙ্গে গলা মিলিয়ে কালো টাকা সাদা, বিদ্যুতে অব্যাহত ভর্তুকি, সংসদ সদস্যদের জন্য থোক বরাদ্দ, তোড়জোড় করে এমপিওভুক্তি, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ানো, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ, কর অবকাশ সুবিধা বাড়ানোর মতো নানা স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী; যা তিনি বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করবেন।

নির্বাচনী বছরে জনতুষ্টি আর চমক হিসেবে সামর্থের চেয়ে অনেক বড় বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। আর তা করতে গিয়ে টাকার যোগানের জন্য বিদেশ নির্ভরতা বাড়াতে চলেছেন তিনি। নানা সমস্যায় বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, অর্থ ফিরিয়ে নেওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তারপরও মন্ত্রী চলতি বছরের চেয়ে বেশি বৈদেশিক সাহায্য বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে আয়-ব্যয়ের অংক মিলিয়েছেন।

আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। যার একটি বড় অংশ যাবে ঋণের সুদ পরিশোধে। যার পরিমাণ ২৭ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মোট উন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেট হতে অর্থায়ন করা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বহির্ভূত প্রকল্পে ৩ হাজার ১৪ কোটি টাকা, এডিপিতে ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা এবং এডিপি বহির্ভূত কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে মোট উন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৬০ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ ব্যয় হবে সুদ পরিশোধে। আগামি বছর শুধু অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদই ব্যয় হবে ২৬ হাজার ৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণের সুদে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এছাড়া অনুন্নয়ন মূলধন ব্যয় ২০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা, খাদ্য হিসাবে ২৬৩ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিমখাতে ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা।


অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন বাজেটে মোট রাজস্ব পাওয়ার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব এক লাখ ৪১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। কর রাজস্বের মধ্যে আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ব্যবস্থা থেকে আসবে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা, বাকী  ৫ হাজার ১২৯ কোটি টাকা এনবিআর বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে আসবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে কর ব্যাতিত প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

বিদেশী অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না,তাই এ ধরণের অনুদানকে রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে হিসাব করা হয়। আগামি অর্থবছর ৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার বিদেশি অনুদান পাওয়া যাবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয় । বিদেশী এই অনুদানসহ নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৪ শতাংশ।

বাজেটে ঘাটতি অর্থ জোগাড় করতে দেশের ভেতর থেকে সরকার ঋণ নেবে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ব্যাংক ঋণ নেবে ১৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ও স্বল্পমেয়াদী থাকবে ১১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। ব্যাংক বহির্ভূত  ঋণ থাকছে মোট ৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি ও অন্যান্য উৎস থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষমাত্রা ঠিক করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা আছে। সরকারের ব্যাংক ঋণ অবশ্য এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার নিচেই আছে। তবে আগের বছর ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেও শেষ পর্যন্ত সরকার ২৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। নির্বাচনের বছরে একই পরিণতি হতে পারে বলে অনেকের আশংকা।

আসন্ন বাজেট সম্পর্কে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের শেষ বাজেট দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

নতুন অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা হচ্ছে। অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা দিয়ে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনা যাবে। জমি বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে হস্তান্তর বা চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ টাকা দিলেই আর কোনো কর দিতে হবে না। একইভাবে শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর মাধ্যমে অবৈধ আয়ের মালিকদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। কর ফাঁকি দিতে এ সুযোগ করদাতাদের উত্সাহিত করবে। অন্যদিকে নিরুত্সাহিত হবেন প্রকৃত করদাতারা। অবৈধ সম্পত্তির মালিকদের সন্তুষ্ট করার প্রস্তাব রাজস্ব আহরণে স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে।

অপরদিকে এ বাজেট নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুর বলেন, সরকার শেষ বাজেটে এসে স্বল্পমেয়াদি যেসব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তা জনগণসম্পৃক্ত। ভোটের বিবেচনায় এসব ঘোষণা দেয়া হবে। মজুরি, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত তা প্রয়োজন ছিল। তবে বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়াই শ্রেয়।

ড. আহসান মনসুর মনে করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেনের মতো চলমান বড় প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন। তবে সরকারের মেয়াদ শেষে এসে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শুরু না করাই উত্তম।

ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক –  www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www.bdpressinform.org, www.pmo.gov.bd


শনিবার, ২৫ মে, ২০১৩

কারাগারের হাজতি অন্তসত্ত্বা



প্রস্তুতি : সারাদেশ (প্রতিমুহূর্ত.কম)

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত এক হাজতির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৮ জন পুলিশ সদস্য ও এক মহিলা কারারক্ষির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্র জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিঞ্জিরা আমবাগিচা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম মোল্লার মেয়ে বেবী আক্তার (২৬) শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা । ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ স্বামী সজল মিয়াকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।


আদালতের মাধ্যমে তাকে ওই বছর ১৯ মার্চ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে বিচারাধীন হত্যা মামলায় সে জেলা কারাগারে আটক আছে।


এদিকে কামরাঙ্গীরচর এলাকার নুর হোসেন মিয়ার পুত্র মিলন মিয়া (২৯) সখিপুর থানার একটি ডাকাতি মামলায় ২০১১ সালের ১০ মার্চ কারাগারে আসে। গত ১৬ জানুয়ারি বেবী আক্তার ও মিলন মিয়াকে মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য আদালতে নেয়া হয়। আদালতের হাজতখানায় মহিলা ও পুরুষ বন্দীদের রাখার জন্য আলাদা কক্ষ রয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ও কারারক্ষীর সহযোগিতায় বেবী আক্তার ও মিলন মিয়া একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।   


ওই মহিলা হাজতি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা কারাগারের সার্জনের দায়িত্বে থাকা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা কারাগারে হাজতীর সাথে কথা বলেন। মহিলা হাজতি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসককে অবহিত করেন।


ঘটনাটি জানাজানি হলে বিষয়টি তদন্ত করার ও মহিলা হাজতির ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

২০ এপ্রিল মহিলা হাজতীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি ও ইউরিন পরীক্ষায় তার ১১ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত কমিটি ১৩ মে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,বেবী আক্তার ও মিলন মিয়া পূর্ব পরিচিত। আদালতে হাজিরা দিতে আসার পথে তাদেরসাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন হয়। গত ১৬ জানুয়ারি হাজিরা দিতে এসে পুলিশের সহায়তায় আদালতের হাজতখানার একটি কক্ষে তারা মিলিত হয়। এ বিষয়টি বেবী আক্তার ও মিলন মিয়া লিখিতভাবে তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন।


পরার্তীতে তাদের দু’জনের স্বীকারোক্তি ও তদন্ত কমিটি তদন্ত করে জানতে পারে, ১৬ জানুয়ারি আদালত হাজতখানায় দায়িত্ব পালন করেন সশস্ত্র সহকারী পরিদর্শক মজিবুর রহমান, সশস্ত্র সহকারী পরিদর্শক বাবুল দত্ত, কনস্টেবল মহসিন, জামাল মাতুব্বর, আবুল বাশার, তৌহিদুল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস, আবুল খায়ের ও মহিলা কারারক্ষী আফরাজা বেগম । তদন্ত কমিটি তাদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।


অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হাজতি বেবী আক্তার ও মিলন মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে পুলিশ ও কারারক্ষীর দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যথাযত দায়িত্ব পালন করলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হত না। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বেবী আক্তার ও মিলন মিয়ার অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

 
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন,আদালতে হাজতি অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। এখনো তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাইনি। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, হাজতির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদন্ত প্রতিবেদনের কপি সরবরাহ করা হবে।
 

প্রতিবেদন : আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের, নিউজরুম এডিটর

এজে- ২৩/৫-১

কান চলচ্চিত্র উৎসবে 'এ সেপারেসন' ও 'দি সেলফিস জায়ান্ট'


কান চলচ্চিত্র উৎসবের তৃতীয় দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিটে 'এ সেপারেসন'  ও রাত ৯ টায় 'দি সেলফিস জায়ান্ট' প্রদর্শিত হয়।

ইরানের অস্কারজয়ী পরিচালক আজগর ফরহাদির ছবি 'এ সেপারেসন'।

ছবিটির অভিনেতা তাহার রাহিম ও অভিনেত্রী বেরিনিস বেজো ইতিমধ্যে ছবিটির প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ছবিটি একজন ইরানী লোক সম্পর্কে যিনি চার বছর পর প্যারিসে ফিরেছেন তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ও সৎমেয়েকে ত্যাগ করে।

ছবিটি সবার জন্য না হলেও ছবিটির পরিচালক একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরন করেছেন সবাইকে।
ব্রিটিশ পরিচালক সিলো বারনার্ডের অস্কার জয়ী সংকলন 'দি সেলফিস জায়ান্ট'।

ছবিটি আরবর ও সুইফ্টি নামের দুটি চরিত্র নিয়ে নির্মিত। যারা স্কুল না করে বিভিন্ন পাথর সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। দুজন দুজনার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের বন্ধুত্ব অন্যরকম।
ছবিটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে ছবিটিকে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন উপস্থিত সবাই।
ডেস্ক রিপোর্ট : আরফান সুপ্ত
এএস ২০/৫-১0

শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৩

আজ ১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য সংঘ দিবস-২০১৩

মুক্ত কলাম
আজ ১৭ মে শুক্রবার সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে  বিশ্ব টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য সংঘ দিবস-২০১৩।


১৮৬৫ সালের  ১৭ মে ইন্টারন্যাশনাল টেলকমিউনিকেশন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ সম্মেলন অনষ্ঠানের নিদর্শন স্বরূপ ১৯৬৯ সালের ১৭ মে হতে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

পরবর্তীতে নভেম্বর ২০০৬ সালের আইটিইউ সম্মেলনে দিবসটিকে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য সংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।


এবারের বিশ্ব টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য সংঘ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে -
“আইসিটি’স এন্ড ইমপ্রোভিং রোড সেফটি”।


দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান- বিটিআরসি, বিটিসিএল, টেলিটক, সাবমেরিন ক্যাবল, টেশিস, ক্যাবল শিল্প সংস্থা অন্যান্য বেসরকারী মোবাইল অপারেটরসহ বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সংস্থা এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।


প্রতিবেদন : আতিক আহম্মেদ অর্পণ

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

মা দিবসের ইতিহাস

মা দিবসের ইতিহাস



মা দিবস পালনের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। খৃষ্টপূর্ব ছয় সাল থেকে রোমানরা প্রথম মা দিবস পালন শুরু করে- এরপর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে মা দিবসের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ সময় প্রধানত অধিক সন্তানের মাদেরই পুরস্কার প্রদান করে সন্তান জন্মহার বৃদ্ধির জন্য অনুপ্রাণিত করা হতো।

১৯১১ সাল থেকে এই দিনটি(আজ) পালন হয়ে আসছে‘মা দিবস হিসেবে। সর্ব প্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আমেরিকাজুড়ে পালিত হয় প্রথম‘মা দিবস’। সে সময় আমেরিকায় মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হতো। এর পর আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে মা দিবসটি সর্বজনীন করে তোলার লক্ষে এগিয়ে আসেন জুলিয়া ওয়ার্ড নামের এক আমেরিকান। মা দিবসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার জন্য ১৮৭২ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড ব্যাপক লেখালেখি শুরু করেন। এরপর ১৮৭২ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে জুলিয়া ওয়ার্ড নিজে ‘মা দিবস’পালন করেন।

১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উইড্র উলসন-এর সময় আমেরিকায় প্রথম মা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়, এরপর ১৯২২ সালে ফ্রান্সে প্রথম মা দিবস শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান ১৯৪১ সালে জাঁকজমকভাবে মা দিবস পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে এ দিবসকে রাষ্ট্রীয় উৎসবের মর্যাদা দেয়া হয়। মায়েদের জন্য প্রতিবছর ৩১ মে সুইডেন এবং মে মাসের শেষে ইংল্যান্ডে, ১৪ মে আমেরিকা, ২৬ মে পোলান্ড এবং মে মাসের শেষ রবিবার জার্মানীতে মা দিবস পালিত হয়।


২৭শে মে বলিভিয়ায় এই দিবসটি পালিত হয়। ১৮১২ সালের ২৭ মে সংগঘিত কারনিলার যুদ্ধের স্মৃতিস্মারক হিসেবে এই দিনটিকে মা দিবস রূপে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় ৮ ই নভেম্বর, ১৯২৭ সালে।
চীনে ১৯৯৭ সালে দরিদ্র মায়ের সাহায্য করার জন্য, বিশেষ করে পশ্চিম চীনের গ্রামঞ্চলের দরিদ্র মায়েদের কথা মানুষকে মনে করানোর জন্য এই দিনটি পালন করা হয়। গ্রীসে, যিশুকে মন্দিরে পেশ করার ইস্টার্ন অর্থডক্স ফিস্ট ডের সঙ্গেই পালন করা হয় মা দিবস।

২০ জুমাদা আল-খানি, মুহাম্মদ (সঃ)-এর মেয়ে ফাতিমা-র জন্মবার্ষিকীর দিনে ইরানে পালন করা হয় মা দিবস। নারীবাদী আন্দোলনকে ইন্ধন যোগানো এবং ঐতিহ্য মাফিক আদর্শ পরিবারের মডেল তুলে ধরার জন্য এই দিনটি পালিত হয়। জাপানের রানী কাজুন-এর (রাজা আকিহিতো’র মা) জন্মদিনকেই মা দিবস হিসাবে পালন করে জাপান।

মেক্সিকোতে র্মাকিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে ১৯২২ সালে আলভারো সরকার মা দিবসের প্রচলন করে। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে “লাজারো কার্দেনাস” সরকার মা দিবসকে একটি “দেশত্মবোধক উৎসব” হিসাবে উপস্থাপন করে। ১৯৪২ সালে সলেদাদে মা দিবসের বিশাল অনুষ্ঠানের একই সময়ে লেওন শহরে পাদ্রীয় মেরির ২১০ তম উৎসব পালন করে। এখন মেক্সিকোতে মা দিবস এবং ভার্জিন মেরি উৎসব একই সাথে পালন করে।

কানাডা মে মাসের ২ তারিখে মা দিবস পালন করা হয়। আমাদের দেশেও মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালন করা হয়।

লেখা: আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের

মধুর আমার মায়ের হাসি.


মধুর আমার মায়ের হাসি...



মা কথাটি ছোট্ট অতি,
কিন্তু জানো ভাই- ইহার চেয়ে নামটি মধুর
ত্রিভুবনে নাই......

আজ আন্তর্জাতিক মা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মা দিবস পালিত হয়ে থাকে। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে। বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে এ দিনে তেমন কর্মসূচি না থাকলেও কিছু কিছু সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তি নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মা দিবস পালন করে।

অনেক গবেষকের ধারণা, ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ। তবে মা দিবস উদযাপনের সূচনা করে মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। শুরুতে প্রতি বছর মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসেবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতের শতকের কথা। মায়ের সঙ্গে সময় দেয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উহলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন রূপে ঘোষণা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে 'মা' দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস।

কোন শব্দে এতো আকুলতা !! এতো আবেগ !! এক নিবিড় টান, শেকড়ের টান। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শব্দ ‘মা’। মায়ের সঙ্গে সন্তানের গভীরতম সম্পর্কের কাছে সব সম্পর্কই যেন গৌণ। যে সম্পর্কের সঙ্গে আর কোনো তুলনা হয় না। মায়ের তুলনা মা নিজেই। একটি আশ্রয়ের নাম ‘মা’।

‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে আপন। সবকিছু পরিশোধ করা গেলেও মায়ের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ‘মা’ শব্দটির বাংলা অর্থ জননী, গর্ভধারিণী, ধাত্রী, গুরুপত্নী, ব্রাহ্মণী, রাজপত্নী, শুশ্রুষাকারিণী, প্রতিপালিকা ইত্যাদি। ‘মা’ ডাকতে সবার খুবই মধুর লাগে। ‘মা’ তাঁর সন্তানকে খুবই ভালোবাসে।

দীর্ঘ দশ মাস ১০ দিন মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে। মায়ের দেহে নিউট্রোপেট্রিক রাসায়নিক পদার্থ থাকায় মায়ের মনের মাঝে সন্তানের জন্য মমতা জন্ম নেয়, মায়ের ভালোবাসার ক্ষমতা বিজ্ঞানের মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে আসার আগে  সন্তান মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয়। মায়ের দেহ থেকেই খাদ্য গ্রহণ করে। এরপর সন্তান প্রসবের সময় মায়েরা যে কষ্ট অনুভব করে তা ‘মা’ ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। বাবা শুধু ভরণ-পোষণই দেয়। কিন্তু ‘মা’ সন্তানকে লালন-পালন করে।

সন্তানের সফলতা মায়ের সফলতা, সন্তানের ব্যর্থতা মায়ের হৃদয়কে ব্যথিত করে। বিশেষ করে যেসব মায়েদের সন্তান প্রতিবন্ধী। সেসব মায়েদের দুঃখের সীমা থাকে না। ‘মা’ সকল সন্তানকে একই চোখে সমান দৃষ্টিতে দেখে। অনেক প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে যাদের অবস্থা গুরুতর। ‘মা’ তাদের পাশে বসে থাকে। মানুষ হলে তার জন্য প্রতি মিলি সেকেন্ড, সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা বা প্রতিদিনই মা দিবস। আর মানুষ রুপে জন্ম নেওয়া অমানুষদের জন্য কখনোই না। একদিনের জন্য মাকে সম্মান, ভালবাসা দেখানো বা উপহার দেওয়া, তা হবে বিলাসিতা বা রসিকতা।

পশ্চিমারা বৃদ্ধাশ্রমে বাবা-মাকে বছরে একদিন দেখতে যায় কিছু উপহার হাতে নিয়ে। টাকা আমাদের কম থাকতে পারে, হতে পারি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র কিন্তু বাবা মায়ের প্রতি বাংলাদেশের মানুষদের ভালোবাসা তাদের চেয়ে কোটি লক্ষ গুণ বেশি। সেদিক থেকে আমরা তাদের চেয়ে অনেক বেশি বিত্তবান। এ আমাদের গর্ব। আমাদের রয়েছে ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এক গৌরবময় অধ্যায়। আমরা হৃদয় ছুঁয়ে বলতে পারি, আমরা আমাদের মাকে ভালোবাসি। হাজারও না বলা কষ্ট স্বীকার করে মা গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে। এ ঋণ কোনোভাবেই শোধ করার নয়। শুধু তাই নয়, সন্তান জন্মের পর নিজের চেয়ে সন্তানই তখন হয়ে ওঠে মুখ্য। এভাবে সারাজীবন মা সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন।

আলাদাভাবে ‘মা দিবস’ পালনের কথা না থাকলেও ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রতিনিয়তই মা’কে সম্মান জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পবিত্র কোরানুল কারীমে বলা হয়েছে- ‘‘তোমরা আল্লাহ পাকের ইবাদত কর, মা-বাবার প্রতি সদয় ব্যবহার কর; যখন তাঁরা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছবে, তোমরা উহ্ তথা বেদনাদায়ক কোন শব্দ বলিও না।’’

সহি বুখারি শরিফে উল্লেখ করা হয়, ‘আবু হুরাইরা রা. বলেন: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা:) দরবারে হাজির হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার সুন্দর আচরণের সবচাইতে বেশি দাবিদার কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে আবারও জিজ্ঞেস করল এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা।‘ (সহিহ আল বুখারী, এইচ এম সাঈদ কম্পানি, আদব মঞ্জিল, করাচি, কিতাবুল আদব, ২খ, পৃষ্ঠা ৮৮২)। হাদীস শরীফে আরও বলা হয়েছে- ‘‘মা’য়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত।’’

হিন্দু ধর্মে বলা হয়েছে-  মা-বাবার সেবা কর। খ্রিশ্চান ধর্মে বলা হয়েছে- পিতা-মাতাকে শ্রদ্ধা করার কথা। মোদ্দাকথা পৃথিবীর সকল ধর্মে মা-বাবার সাথে কর্কশ ব্যবহার করাকে মহাপাপ হিসেবে ধরেছেন।

কবি-সাহিত্যিকরা মাকে নিয়ে মূল্যবান প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা লিখেছেন। রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ গ্রন্থটি সারা বিশ্বে সমাদৃত। ‘আমাকে শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেবো’-নেপোলিয়নের এই ঐতিহাসিক বাণীর উপলদ্ধি হতে মায়েরাই পারে উন্নত দেশ, সমাজ ও জাতি উপহার দিতে।

মা হারা ছেলে-মেয়েদের অনেকাংশই নানা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে তারা প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়। সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষা ও চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকাই মুখ্য। জাতিকে শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত তাৎপর্যবহ।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য বিশেষ দিনগুলোর চেয়ে এ দিনটিতে সবচেয়ে বেশি ফোন কল হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিআইপি কমিউনিকেশন এর জরিপে দেখা গেছে, এ দিনটিতে নববর্ষের চেয়ে ৮ শতাংশ, ভালোবাসা দিবসের চেয়ে ১১ শতাংশ এবং হ্যালোয়েনের চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি ফোন কল হয়। ভিআইপি কমিউনিকেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পিটার রজার্স বলেন, আমরা ভিআইপি কমিউনিকেশনের ৫০ হাজারেরও বেশি গ্রাহকের ফোন কল বিশ্লেষণ করে দেখেছি মা দিবসে মায়েদের কাছে সবচেয়ে বেশি কল যায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নববর্ষ বা ভালোবাসা দিবসের চেয়ে মা দিবসে ফোন কল বেশি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকানরা মা দিবসে ফোন করে সবচেয়ে বেশি। তাদের ফোন কলের হার  এই দিন ৯১ শতাংশ বেড়ে যায়। যা অন্য বিশেষ দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়াও তারা অন্যদের চেয়ে এ দিনটিতে মায়েদের সাথে ফোনে বেশি সময় ব্যয় করে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঘানার অধিবাসীরা। বিশ্বে মাত্র দুটি দেশ মিসর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় মা দিবসে ফোন কলের সংখ্যা কমছে।

মা দিবস মায়েদের আরো সচেতন করে সার্বিক শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে, আদর্শ মা হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং মাতৃত্বসুলভ উন্নত মননশীলতার জন্ম দেবে: যার পরোক্ষ ফল হিসেবে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। আগামী প্রজন্ম পাবে একটি সুখী, সুন্দর, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

দেশের সার্বিক শিক্ষা প্রসারের মূল নেপথ্য শক্তি মায়েদের সচেতন করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মা দিবসে বিশ্বের সমস্ত মায়ের প্রতি ভালোবাসা

আজ যেন সীমানা বিহীন ভালোবাসার একটি দিন।
আজ বিশ্ব মা দিবস , যে ভালোবাসায় বাঁধি খেলাঘর।
আজ যেন পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর শব্দ বলার একটি দিন।

"আমার মা-কে খুব মনে পড়ছে। তোমাকে খুব ভালোবাসি মা" ।

লেখা : আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের

উৎসর্গ : শাহানা রহমান (আমার মা)

শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

অ্যান্টার্কটিকায় ১০ গুণ দ্রুত বরফ গলছে


এবারের গ্রীষ্মে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ বিগত ছয়শ বছরের তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত গলতে শুরু করেছে। গত ৫০ বছরে সময়ে বরফ গলার হার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দ্রুত ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়া ব্রিটেনের যৌথ গবেষণা দলের সমীক্ষার ফলাফলে সব তথ্য উঠে এসেছে।  

 নেচার জিওসায়েন্স নামের গবেষণা সাময়িকীতে সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে অতীতের তাপমাত্রা কি ছিল নিয়ে দ্বিতীয় সমীক্ষা চালানো হলো। সমীক্ষায় অংশ নিয়েছে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিকা সার্ভে এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল সমীক্ষা চালায়।  

গবেষণা দলটি বরফ আচ্ছাদিত মহাদেশের উত্তরের জেমস রস আইল্যান্ডে খনন করেছে। তারা দ্বীপের ৩৬৪ মিটার অর্থাৎ ১১৯৪ ফুট গভীর পর্যন্ত বরফ স্তর ড্রিলিং করেছে। অতীতে মহাদেশের তাপমাত্রা কেমন ছিল তা যাচাইয়ের জন্য খনন করা হয়। গ্রীষ্মকালে বরফ গলে এবং তারপর আবার জমাট বাঁধে। বরফের স্তর বিন্যাস দেখে খালি চোখেই বিষয়টি বোঝা যায়। এই বরফের ঘনত্ব মেপে বরফ গলার ইতিহাস বের করতে পারেন বিজ্ঞানীরা। গত এক হাজার বরফে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে তাপমাত্রার কতোটা হেরফের হয়েছে তা এভাবেই নির্ণয় করেন গবেষকরা।  

গবেষক দলের প্রধান অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ধরিত্রী বিজ্ঞান অনুষদের নেবিলি আরাম বলেন, আজ থেকে ছয়শ বছর আগে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে সবচেয়ে শীতল পরিবেশ ছিল এবং গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে কম বরফ গলেছে। ২০ শতকের শেষের দিকে অ্যান্টার্কটিকার যে তাপমাত্রা নেয়া হয়েছে ছয়শ বছর আগের সে সময়ে তাপমাত্রা তার চেয়ে দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। এছাড়া বাৎসরিক বরফপাতের পর গ্রীষ্মকালে যে বরফ গলেছে তার পরিমাণ ছিল মাত্র দশমিক শতাংশ। বর্তমানে এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি হারে বরফ গলছে বলে জানান তিনি।  

গবেষক দলটি বলেছেঅ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফের সোপান এবং হিমবাহের ওপর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ প্রভাব কি পড়ছে তা সঠিকভাবে বের করার জন্য জাতীয় গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে। জাতীয় গবেষণা ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের উষ্ণতা এমন এক পর্যায়ে গেছে যে, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ব্যাপক হারে বরফ গলতে শুরু করে।
 
সূত্র : ইন্টারনেট
লেখা : আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের

বাংলাদেশের অলিম্পিক গেমস ও আনসারদের অধিপত্য




১৫ মার্চ ১৯৭৮ বাংলাদেশ অলিম্পিক গেমস নামে ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ আসরের পথচলা শুরু সময়ের পরিক্রমায় আসরের পরিবর্তিত নাম হয়েছেবাংলাদেশ গেমস নির্ধারিত সময়ের বছর পর ২০-২৮ এপ্রিল ২০১৩ অনুষ্ঠিত হয় ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহৎ আসরের অষ্টম আয়োজন

নানা চড়াই,উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর মাস দিন পর বার্ণিল উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে ২০ এপ্রিল শনিবার পর্দা ওঠে বাংলাদেশের অলিম্পিক খ্যাত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসেরহৃদয়ে খেলার স্পন্দন স্লোগান নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানি আর আতশবাজির উৎসবে শুরু করা হয় দেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ
 
এর আগে ১৯ এপিল শুক্রবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ১০ জন ক্রীড়াবিদ জ্বলন্ত মশাল নিয়ে দৌড় শুরু করেন এরপর তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুসজ্জিত মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করে আনা হয় আর্মি ষ্টেডিয়ামে সেখান থেকে ৩৬ জন ক্রীড়াবিদেও একটি দল মশাল নিয়ে আসেন জাতীয় ষ্টেডিয়ামে ২০ এপ্রিল শনিবার সেখানে মশাল হাতে দৌড়ান ক্রীড়াবিদ সর্বশেষ লিফটে চড়ে মশাল স্টান্ডে দাঁড়িয়ে মশাল জ্বালান সাবেক হকি তারকা জুম্মান লুসাই
 
বাংলাদেশ গেমস প্রতিযোগিতা হয় ৩৪৬ টি স্বর্ণ, ৩৪৬ টি রৌপ্য ৪৭৭ টি ব্রোঞ্জ পদকের জন্য কয়েকটি ইভেন্টে টি কওে ব্রোঞ্জ পদক দিতে হয় দলগত ইভেন্টে দলের প্রত্যেককে আলাদা কওে পদক দেয়ায় পদক সংখ্যা বেশি কওে বানাতে হয় সে হিসেবে অষ্টম বাংলাদেশ গেমসে মোট পদক সংখ্যা ছিল হাজার ২৪৩ টি আসরে প্রথম স্বর্ণ পদক লাভ করে টেনিসের পুরুষ দ্বৈতে যৌথভাবে অমল রায় হেনরি পৃথুল

২০ এপ্রিল শুরু হওয়া অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের সাদামাটা সমাপনীতে পর্দা নামে সাভার ট্রাজেডির কারণে সমাপনী অনুষ্ঠানের চাকচিক্য বর্জন করা হয়েছে সাদামাটা সমাপনীর মধ্যদিনে পর্দা নামে ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথির আগমণ তারপর এভি ডিসপ্লে, মাসকট মার্চপাস্টের মাধ্যমে অ্যাথেলিটদের মাঠে প্রবেশ, এক মিনিট নীরবতা পালন, মাসকটের বিদায়, মশাল নিভিয়ে ফেলা ইত্যাদি

বাংলাদেশ গেমসের সমাপনী ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সময় যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার এমপি, বিওএ সভাপতি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, সহ-সভাপতি স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, মিজানুর রহমান মানু, শেখ বশির আহমেদ মামুন, উপ-মহাসচিব বাদল রায়, আশিকুর রহমান মিকু, এসএম ইমতিয়াজ খান বাবুল বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ফজল বুলবুল উপস্থিত ছিলেন
 
বাংলাদেশ গেমসে টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষস্থানে নিজেদের সাফল্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি দল দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অবদান আরও একবার প্রমাণ করল সার্ভিসেস এই দলটিসদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ গেমসে ১১১টি স্বর্ণ, ৭৪টি রুপা ৬৫টি ব্রোঞ্জসহ ২৫০টি পদক জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ফের প্রমাণ করল আনসার
 
১৯৯২ সালে পঞ্চম বাংলাদেশ গেমস থেকেই পদক তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা শুরু আনসারের সেবার তারা ৫০টি স্বর্ণ জিতে পদক তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নেয়
 
১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ বাংলাদেশ গেমসে ৬৯টি স্বর্ণ জিতে শীর্ষস্থান ধরে রাখে আনসার ২২ ডিসিপ্লি¬নে তিন হাজার ৬৭৯ জন ক্রীড়াবিদের আসরে আনসারের সাঁতারু রেহানা জামান ব্যক্তিগতভাবে ১০টি স্বর্ণ জিতে সেরা ক্রীড়াবিদের মর্যাদাও পান
 
২০০২ সালে সপ্তম বাংলাদেশ গেমসেও সেরার মুকুট ছিল এই আনসার বাহিনীর মাথায় ২৫টি ডিসিপ্লি-নের ওই আসরে ৬৫টি স্বর্ণ, ৬১টি রুপা ৬৪টি ব্রোঞ্জসহ ১৯০টি পদক জিতে তৃতীয় বারের মতো গেমসের শীর্ষস্থানে থাকে তারা পরপর তিনবার গেমসের শীর্ষস্থান দখলে রাখায় ওই বছরেই স্বাধীনতা পুরস্কার পায় বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি বাহিনী বাংলাদেশ গেমসের অষ্টম আসরে ডিসিপ্লিন সংখ্যা বাড়ায় আনসারের পদক সংখ্যাও বেড়েছে গেমসের মোট ৩৩৬টি স্বর্ণের মধ্যে আনসারের অর্জন ১১১টি

লেখা : আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের

অনুবাদ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ